এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা। সচিবালয়ে গতকাল অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২৭তম সভায় এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়া হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ১০৫(৩)(ক) অনুসরণে আন্তর্জাতিক কোটেশন (আরএফকিউ) পদ্ধতিতে তিন কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। তবে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি আংশিক অনুমোদন দিয়ে দুই কার্গো কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্যানুযায়ী, তিন কার্গো এলএনজি ক্রয়ের মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ছিল ২ হাজার ১১২ কোটি ৬০ লাখ ৩৩ হাজার ৬৩৪ টাকা (এআইটি-সহ)। এর মধ্যে অনুমোদিত দুই কার্গো এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে চলমান সংকট বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। দেশের এলএনজি ও অন্যান্য জ্বালানি আমদানির দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় নির্ধারিত সময়ে কিছু চালান পাওয়া যাচ্ছে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চুক্তির “ফোর্স মেজর” ধারা প্রয়োগ করছে। অর্থাৎ তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে পারছে না। এ অবস্থায় স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, দেশের তাৎক্ষণিক জ্বালানি চাহিদা মেটাতে জুন ও জুলাইয়ের প্রথম দিকের জন্য দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ এলএনজি কার্গো ক্রয়ের পর তা দেশে পৌঁছতে এবং খালাস করতে নির্দিষ্ট সময় লাগে।
তিনি বলেন, ‘তৃতীয় কার্গো কেনার বিষয়ে সরকার এখনই সিদ্ধান্ত নিতে চায়নি। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম কিছুটা নিম্নমুখী হওয়ায় পরিস্থিতি আরো কয়েক দিন পর্যবেক্ষণ করা হবে। এর মধ্যে যদি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কোনো চালান দেশে পৌঁছে যায় অথবা বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হয়, তাহলে অতিরিক্ত ব্যয় এড়ানো সম্ভব হবে।’ মূলত সরকারি অর্থ সাশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সচিব।
অন্যদিকে দেশে কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে ইউরিয়া সার ও শিল্প খাতের কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করতে ৭০৪ কোটি ৬৯ লাখ ৬৮ হাজার ৯৭৮ টাকার তিনটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, কমিটি সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ৫০ হাজার টন ইউরিয়া সার আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। এজন্য ব্যয় হবে ৩৪৮ কোটি ৫৫ লাখ ৫৯ হাজার ৩০০ টাকা। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডেল্টা স্টার ট্রেডিং এফজেড-এলএলসি (স্থানীয় এজেন্ট: আইবেডিটা ট্রেডিং, ঢাকা) প্রতিষ্ঠান থেকে এ সার আমদানি করা হবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি টন ইউরিয়া সারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০৭ দশমিক শূন্য ১ ডলার। এর মধ্যে এফওবি মূল্য ৬০০ দশমিক ৮৩, ফ্রেইট চার্জ ৭৫ এবং ব্যাগ, ব্যাগিং ও স্থানীয় পরিবহন ব্যয় ৩১ দশমিক ১৮ ডলার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
একই বৈঠকে সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১৯তম লটের ২৫ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন দেয়া হয়। এতে ব্যয় হবে ১৮৫ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৪৩৭ টাকা ৫০ পয়সা। প্রতি টন ইউরিয়া সারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০০ দশমিক ৮৩ ডলার।
এছাড়া টিএসপিসিএলের জন্য ১৫ হাজার টন রক সালফার/ব্রাইট ইয়েলো সালফার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এতে ব্যয় হবে ১৭১ কোটি ১ লাখ ২ হাজার ২৪০ টাকা।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি টন সালফারের মূল্য ধরা হয়েছে ৮০০ ডলার। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ফ্যাবসকো কনস্ট্রাকশন লিমিটেড, সেশেলস থেকে সালফার আমদানি করা হবে। প্রতিষ্ঠানটি তাইওয়ান, তুর্কমেনিস্তান, নরওয়ে, কাজাখস্তান, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সালফার সরবরাহ করবে।